![]() |
| প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং |
১৪ অক্টোবর ২০২৫ | আন্তর্জাতিক
চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বিনিয়োগ উদ্যোগ
চীন বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ (Rare Earth Elements) পরিশোধনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই খনিজগুলো আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে ইলেকট্রিক গাড়ি, স্মার্টফোন, সেমিকন্ডাক্টর, উইন্ড টারবাইন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে এদের বিকল্প প্রায় নেই।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উচ্চ শুল্ক আরোপ ও প্রযুক্তি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাবে চীন এই খনিজগুলোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV), প্রতিরক্ষা শিল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
আরো পড়ুন: গাজা পুনর্গঠন ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে তুরস্ক-কাতার-ফ্রান্সের সঙ্গে সিসির বৈঠক
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের "অর্থনৈতিক অস্ত্রায়ন"—যেখানে চীন তাদের শিল্প-নিয়ন্ত্রণকে ভূরাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের উপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধন শিল্পে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ শুরু করেছে। দেশটি নেভাডা, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন খনি প্রকল্পে কাজ করছে এবং অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই একচেটিয়া অবস্থান ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এছাড়া নতুন খনি প্রকল্পগুলো পরিবেশগত ঝুঁকি ও রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হতে পারে, যা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিরল খনিজ যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

0 মন্তব্যসমূহ