ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ তীব্র আকারে বঙ্গোপসাগরে, ভারতের পূর্ব উপকূলে জরুরি অবস্থা — ৫০ হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে

ঘূর্ণিঝড়মোন্থা

২৭ অক্টোবর ২০২৫

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়মোন্থাদ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এটি আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতের পূর্ব উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালাতে পারে। সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

জরুরি প্রস্তুতিতে ভারত

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

জরুরি সেবাকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার স্কুল কলেজগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে।

নিম্নাঞ্চল থেকে পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

 

অন্ধ্র প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, “কাকিনাড়া জেলা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। উপকূলের এলাকাগুলোতে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

 

বিপদের মুখে উপকূলবাসী

সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার রাত বা মঙ্গলবার ভোরে আছড়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে, ৩৯ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এই ঘূর্ণিঝড়ে।

এছাড়া, ওড়িশার জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

তামিলনাড়ু রাজ্যেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানী চেন্নাই- বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।

 


নেপালেও প্রভাবের আশঙ্কা

হিমালয় দেশ নেপাল মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত তুষারপাতের সতর্কতা জারি করেছে।

এই মাসেই সেখানে বন্যা ভূমিধসে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গোপসাগরে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

১৯৯৯ সালের অক্টোবরে ওড়িশায় আঘাত হানা সুপার সাইক্লোনে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা এখনো ভারতের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্মরণীয়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ