গাজা যুদ্ধের অবসান চুক্তি চূড়ান্তে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মাহমুদ আব্বাস

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

১৩ অক্টোবর ২০২৫ | আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান গাজা যুদ্ধের অবসান ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে নতুন এক উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মিসরের শার্ম এল-শেখে অনুষ্ঠিতব্য এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো গাজা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করা।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এক জ্যেষ্ঠ প্যালেস্টাইনি কর্মকর্তার বরাতে আব্বাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় গতি দিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা অংশগ্রহণ করবেন।

আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। এতে প্রায় ৩০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নেবে বলে জানা গেছে।

সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়

এই শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো।

মূল বিষয়গুলো হলো:
  • গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা
  • ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন করা
  • গাজার মানবিক সাহায্য ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা
  • গাজায় প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা
  • হামাসের অস্ত্র কমানোর বা নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তাব

এই চুক্তির আওতায় গাজার পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, তুরস্ক ও ইউরোপীয় দেশগুলো আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তদারকি বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসছে, যা গাজার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তদারকি করবে।

আরো পড়ুন: ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন মারিয়া করিনা মাচাদো


চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক

তবে শান্তি প্রক্রিয়াটি যতটা আশাব্যঞ্জক, ততটাই জটিলও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেছেন, “গাজায় প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতায় ফেরানোর প্রশ্নই ওঠে না।” অন্যদিকে হামাসও এখনো অস্ত্র পরিত্যাগ বা প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়ার ব্যাপারে অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয় — বরং এটি মানবিক পুনর্গঠন ও আস্থার পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া।

আন্তর্জাতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় খুলতে পারে। যদি চুক্তি সফল হয়, তবে গাজা পুনর্গঠনের পাশাপাশি প্যালেস্টাইনের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও কিছুটা কমে আসবে।
তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে—বিশেষ করে হামাস, ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ