![]() |
| ছবি সংগ্রহিতঃ ড. মির্জা গালিব |
২৭ অক্টোবর ২০২৫
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য—“আওয়ামী লীগের পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের স্ত্রীদের ওপর জামায়াতের হক আছে”—নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠলেও, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ড. মির্জা গালিব এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মির্জা গালিবের প্রতিক্রিয়া
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ড. গালিব লেখেন—
“আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদি সময়ে জামায়াত-শিবিরকে সিস্টেমেটিকভাবে ভিলিফাই (অপপ্রচার) করা হয়েছিল। মিথ্যার সঙ্গে আরও মিথ্যা মিশিয়ে একধরনের গল্প বানানো হয়েছিল। দুঃখজনক হলো—অনেকে এখনো একই কাজ করে যাচ্ছেন।”
![]() |
| ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ |
তিনি আরও জানান, গত ২৬ অক্টোবর জিটিভির এক টকশোতে একজন সহ-আলোচক দাবি করেন যে, সিরাজগঞ্জ জামায়াতের সেক্রেটারি ওই মন্তব্য করেছেন। কিন্তু পরে সেই জামায়াত নেতা নিজেই ড. গালিবকে ফোন দিয়ে জানান—তিনি কখনো এমন কথা বলেননি।
ড. গালিব বলেন,
“ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই নেতা বরং বলেছেন—‘আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা ৫ আগস্টের পরে আমাদের দ্বারা কোনো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হননি, এজন্য তারা আমাদের ভোট দিতে পারে।’”
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ড. গালিব অভিযোগকারীর উদ্দেশে বলেন—
“যিনি এই অভিযোগ তুলেছেন, তিনি যেন প্রমাণ হাজির করেন। আর যদি যাচাই-বাছাই ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার কার্ড দেখে এমন দাবি করে থাকেন, তাহলে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
টকশোতে বিকৃত বক্তব্যের অভিযোগ
ড. গালিব আরও উল্লেখ করেন, চ্যানেল ২৪-এর এক আলোচনায় বিএনপির এক উপদেষ্টা জামায়াতের আরেক নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন,
“ওই উপদেষ্টা দাবি করেছেন, মাসুদ বলেছেন—‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিবিরের এত অস্ত্র আছে যে, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় দখল করা যাবে।’ অথচ বাস্তবে মাসুদ কেবল অন্যদের বলা কথাটিই উদ্ধৃত করেছিলেন।”
“মিথ্যা প্রোপাগান্ডা রাজনীতির অংশ হওয়া উচিত নয়”
মিথ্যা প্রচারণা ও গুজব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. গালিব বলেন,
“রাজনীতিতে সমালোচনা থাকবে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা বলে, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কালিমালিপ্ত করা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।”
আরও পড়ুনঃ বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ ঘুমাতে পারবে না: ফয়জুল করীমের হুঁশিয়ারি।
তিনি আরও বলেন,
“যদি মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে কাউকে থামিয়ে রাখা যেত, তাহলে আওয়ামী লীগই হয়তো ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকত!”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মিথ্যা প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডা নতুন কিছু নয়। তবে ড. মির্জা গালিবের বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সত্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ও নৈতিক রাজনীতির আহ্বান আবারও সামনে এনেছে।
এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে—দেশে এখনো তথ্য বিকৃতি ও মিডিয়া ম্যানিপুলেশন একটি বড় সমস্যা, যা দূর করা না গেলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও দুর্বল হবে।


0 মন্তব্যসমূহ