![]() |
| বৈঠকের শুরুতে হাত মেলাচ্ছেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং |
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে মুখোমুখি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে ঘিরে ছিল বৈশ্বিক কৌতূহল।
হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু ও শেষ করেন দুই নেতা। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই আলোচনাকে ট্রাম্প আখ্যা দিয়েছেন “অসাধারণ” বলে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“যদি ১০-এর মধ্যে নম্বর দিতে হয়, আমি ১২ দেব। এটা ছিল একদম দারুণ একটি বৈঠক।”
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত: চীনের ওপর শুল্ক কমানো
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত সব আমদানি শুল্ক কমাবে।
এছাড়া, চীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আধুনিক কম্পিউটার চিপ কেনার অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের আরোপিত নিয়ন্ত্রণে কোনো বাধা থাকবে না, যদিও বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।
![]() |
| ছবিঃ রয়টার্স |
চীনের প্রতিক্রিয়া: ‘দুই দেশের অর্থনীতির জন্য আশ্বাসজনক পথ’
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন,
“বড় বাণিজ্য ইস্যুগুলোর সমাধানে দুই পক্ষই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দলগুলো এমন ফলাফল নিয়ে কাজ করবে যা দুই দেশের অর্থনীতির জন্য একটি আশ্বাসজনক পথ তৈরি করবে।”
বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এক নজরে
-
যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর আরোপিত সব শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমাবে।
-
চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে বাধা কমাবে।
-
চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের চিপ ক্রয় করতে পারবে।
-
বেইজিং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং-এর সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
-
চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি শুরু করবে।
-
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।
-
ট্রাম্প আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাবেন, পরে প্রেসিডেন্ট শি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন,
“চীনের প্রেসিডেন্ট শি একজন মহান নেতা। এটি ছিল একটি বড় সফলতা এবং আমার জন্য এক বড় সম্মান।”
প্রায় ১৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন ও বেইজিং অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে।” তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
প্রেক্ষাপট২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
এর আগে তারা ২০১৭ সালে ফ্লোরিডা, ২০১৮ সালে বুয়েনস আইরেস এবং ২০১৯ সালে ওসাকায় জি–২০ সম্মেলনের সময় বৈঠক করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বুসান বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উষ্ণ করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন ভারসাম্যের সূচনা ঘটাতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা, রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্র প্রেস ব্রিফিং


0 মন্তব্যসমূহ