চীনা প্রতারকদের হাতে বিলিয়ন ডলারের ‘টেক্সট মেসেজ প্রতারণা’ ব্যবসা

 

চীনা অপরাধচক্রের নতুন কৌশল — ভুয়া টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রে। জানুন কীভাবে তারা কাজ করছে এবং কীভাবে বাঁচবেন।
প্রতীকী ছবি

০১ নভেম্বর ২০২৫

 
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন ধরনের প্রতারণা—টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ভুয়া দাবি। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারণা এখন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে, যার পেছনে মূলত চীনা অপরাধীরা জড়িত।
 

কীভাবে চলছে প্রতারণা

“আপনার হাইওয়ে টোল পেমেন্ট বাকি আছে।”
“ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের ফি পরিশোধ করুন, নইলে পার্সেল পৌঁছাবে না।”
“নিউইয়র্ক সিটি ফিনান্স ডিপার্টমেন্টে আপনার ট্রাফিক জরিমানা বাকি আছে।”
— এমন নানা ভুয়া বার্তা পাঠানো হচ্ছে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের মোবাইলে।

প্রতারকরা এসব বার্তার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে—গিফট কার্ড, বিলাসবহুল পণ্য ক্রয়, এমনকি ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমেও।

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কীভাবে প্রতারকরা এক স্মার্টফোনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড নম্বর ব্যবহার করে অন্য একটি স্মার্টফোন দিয়ে ‘ট্যাপ-টু-পে’ সিস্টেমে কেনাকাটা করছে। অর্থাৎ, ভুক্তভোগীর অনুমতি ছাড়াই তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যাচ্ছে প্রতারকের হাতে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ

সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতারণা এখন এতটাই সংগঠিত যে এটি “একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা শিল্পে” পরিণত হয়েছে। চীনের ভেতর থেকে পরিচালিত এসব অপরাধচক্র মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নাগরিকদের সতর্ক করেছে যেন অজানা নাম্বার থেকে আসা টোল, পোস্টাল বা জরিমানা সংক্রান্ত কোনো বার্তায় কখনও ক্লিক না করে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কাউকে না দেয়।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ