![]() |
| অন্যান্য উপদেষ্টার সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল — ছবি: |
৩ নভেম্বর ২০২৫
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি ঘিরে সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল — জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ, এবং গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব।
সভা শেষে দুপুর ১২টায় মাত্র ৬ মিনিটের এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সভার সিদ্ধান্ত ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরআইন উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল পয়েন্ট
ড. আসিফ নজরুল জানান
“আজকের সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু সংস্কার সুপারিশে ভিন্নমত রয়ে গেছে। তাই আমরা ঐকমত্যের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, গণভোটের সময় ও বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন দলের মতভেদ রয়েছে, যা নিয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেক্ষিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা সহজ হয়।
সরকার নির্বাচন নিয়ে অটল
সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আইন উপদেষ্টা বলেন,“বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। সিদ্ধান্তহীনতা চলতে দেওয়া যাবে না।”
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান
আসিফ নজরুল বলেন,“আমরা কোনো আলটিমেটাম দিইনি। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছাক। তারা যদি ব্যর্থ হয়, সরকার অবশ্যই সরকারের মতো সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি আরও বলেন,"গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসাথে থাকা দলগুলো নিজেদের উদ্যোগে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবে — আমরা এই বিশ্বাস রাখি।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্পষ্ট বার্তা
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে সরকারের অবস্থান কী হবে?
এর জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন,"আমরা অপেক্ষা করব। তবে যদি তারা ঐকমত্যে না আসে, সরকার নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।”
আরেক প্রশ্নে তিনি পরিষ্কার করেন,"চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদই। রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব আমরা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।”
অতিরিক্ত তথ্য
- গণভোটের বিষয়বস্তু ও সময় নির্ধারণে কমিশনের প্রস্তাব দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।
- সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে অতিরিক্ত সভা আয়োজন করবে না।
- আসিফ নজরুল জানান, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই।”

0 মন্তব্যসমূহ