![]() |
| সংগ্রহীত ছবি |
৪ নবেম্বর ২০২৫
সরকার গত সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের গেজেটের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে ভোটে অংশগ্রহণ করতে হবে—এই বিধান নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া
এই অধ্যাদেশের খসড়া প্রথম নীতিগত অনুমোদন পাওয়া হয় উপদেষ্টা পরিষদ-এর বৈঠকে ২৩ অক্টোবর।
খসড়া অনুমোদনের পরই এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তর্ক ও মতবিরোধ দেখা দেয়।
বিএনপি এই ধারা বিশ্লেষণ করে বলেছিলেন: জোটভিত্তিক নির্বাচনে এক দল অন্য দলীয় প্রতীকে কি যাবে না — এই বিষয়টি আপত্তির কারণ ছিল।
আরও পড়ুনঃ তিন আসনে লড়বেন খালেদা জিয়া, প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি) ২০ নম্বর ধারার সংশোধন বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।
ফলস্বরূপ, সরকারের মনস্থির অনুযায়ী ওই ধারা রাখা হয় এবং সংশোধন অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।
নতুন বিধানের মূল বিষয়
প্রার্থী যদি নির্বাচনে জোটবদ্ধ দল হিসেবে অংশ গ্রহণ করেও থাকে, তবুও সে নিজ দলে নিবন্ধিত প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য। অন্য কোন দলের বা জোটের সাধারণ প্রতীকে নয়।
এই সংশোধনের মাধ্যমেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন-আইন ও নির্বাচনের কাঠামোর সব মাত্রায় সংস্কার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে নিম্নোক্ত আইন-বিধি সংশোধন করেছে:
- ভোটার তালিকা আইন
- নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন
- নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন
- ভোটকেন্দ্র নীতিমালা
- দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা
- সাংবাদিকদের আচরণবিধি
সংশোধিত আরপিওর পর আগামী সময়ে “দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি” শিগগিরই জারি করবে নির্বাচন কমিশন।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
এই নতুন বিধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচিতি ও প্রতীকের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে জোটবদ্ধ কৌশলের ওপর নির্ভরশীল দল-মডেলগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হবে। অন্যদিকে, ভোট বা প্রতীকের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমিয়ে এনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিয়মিততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি কাজ করতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই উদ্ভূত বিরোধিতা ও আলোচনা ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক কোনও বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ