ভাত না রুটি—কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? জানুন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

ছবি: ভাত ও রুটি

৩ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকেই রুটি খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন, বিশেষ করে ওজন বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য।

তবে প্রশ্ন রয়ে যায় — ভাত নাকি রুটি, আসলে কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ভাতের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ভাত মূলত চাল থেকে তৈরি, যা দেহে শক্তি জোগায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ভাতে প্রায় ২৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এটি দ্রুত হজম হয় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়।

তবে সাদা চাল প্রক্রিয়াজাত করার সময় ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজের বড় অংশ হারিয়ে যায়, ফলে এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভাত ফ্রিজে রাখলে ফাইবার বাড়ে:

পুষ্টিবিদ নাজনীন হোসেন বলেন, “ভাত ফ্রিজে রাখলে এতে রেসিস্ট্যান্স স্টার্চ তৈরি হয়, যা ফাইবারে পরিণত হয়। ফলে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না।”

রুটির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

রুটি সাধারণত গমের আটা দিয়ে তৈরি হয়। এতে প্রচুর ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন বি ও আয়রন থাকে। এটি ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

রুটি বিশেষ করে ওজন কমাতে বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

তবে ডা. ওয়ালি বলেন, “অনেক মানুষ রুটি সঠিকভাবে রান্না করতেও জানেন না। ভারত ও বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে ভাতই প্রধান খাদ্য, এবং শরীরও তাতে অভ্যস্ত।”

কার জন্য কোনটা ভালো?

  • ডায়াবেটিস রোগী রুটি রক্তে গ্লুকোজ ধীরে বৃদ্ধি পায়
  • স্থূলতা বা ওজন কমাতে চান রুটি ফাইবার বেশি, পেট ভরা রাখে
  • শিশু, ক্রীড়াবিদ বা শ্রমিক ভাত দ্রুত শক্তি দেয়
  • হজমজনিত সমস্যা আছে ভাত সহজে হজম হয়
  • ঠান্ডা বা ক্লান্তিতে ভোগেন ভাত দেহে দ্রুত শক্তি জোগায়

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

পুষ্টি বিশেষজ্ঞ মালা মনরাল বলেন,“প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি ভিন্ন হয়। ধরুন, কারও দিনে ১৬০০ ক্যালোরি দরকার, তবে এর ৬০% শর্করা, ২০% প্রোটিন ও ২০% ফ্যাট থেকে আসা উচিত।”

তিনি আরও বলেন,“এই কার্বোহাইড্রেটের জন্য ভাত, রুটি, ইডলি, উপমা খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত।”

খাবারের অভ্যাসে অঞ্চলভেদও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যে অঞ্চলে যে খাবার জন্মায়, সেটিই সাধারণত স্থানীয় মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয়।

পুষ্টিবিদ নাজনীন হুসেন বলেন, “একটি এলাকায় যা উৎপাদিত হয়, তা সেই এলাকার মানুষের দেহের সঙ্গে মানিয়ে যায়। কাশ্মীরের মানুষের জন্য যেমন ভাত প্রধান, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের শরীরও ভাতে অভ্যস্ত।”

অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে এমনকি ডায়াবেটিস রোগীরাও ভাত খান, তবে তারা ভাতে শাকসবজি ও ডাল মিশিয়ে রান্না করেন, যাতে এটি সহজে হজম হয় এবং অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ না পড়ে।

🌰 মাখানা কেন সুপারফুড?

সম্প্রতি মাখানা বা ফক্স নাট নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এটি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর—যা ডায়াবেটিস রোগী, হৃদরোগী ও ওজন কমাতে ইচ্ছুকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত অল্প পরিমাণে মাখানা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শক্তি জোগায়।


ভাত বা রুটি—কোনোটিই এককভাবে খারাপ নয়।

আপনার বয়স, ওজন, কাজের ধরন, এবং স্বাস্থ্য অনুযায়ী সুষম পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভাত-রুটি যাই খান, পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের অভ্যাসই হলো ভালো স্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ