![]() |
| আজিম ও বৃষ্টি |
২০ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্র পরিচালনার অভিযোগে চট্টগ্রামের আজিম ও মানিকগঞ্জের বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। সোমবার সকালে বান্দরবান থেকে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন CID-এর বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান মডেল’ হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে একজন জনপ্রিয় পারফর্মার। ২০২৪ সালের ১৭ মে তার প্রথম ভিডিও প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত ১১২টি ভিডিওতে ২৬৭ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় প্রচারণা
বৃষ্টি ও আজিম একাধিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে ভিডিও আপলোড করতেন এবং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে নতুন কনটেন্টের লিংক শেয়ার করতেন। গত অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে অন্তত ৫০টি ফেসবুক পোস্টে তাদের প্রচারণা দেখা গেছে। তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল যৌথভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে নিয়মিত ভিডিও লিংক, আয় সংক্রান্ত স্ক্রিনশট এবং নগদ অর্থের ছবি শেয়ার করে নতুনদের উৎসাহিত করা হয়।
আরও পড়ুনঃ তাজিকিস্তানে ইসলামবিরোধী যুদ্ধ: ধর্মীয় স্বাধীনতায় কঠোর দমননীতি ।
ব্যক্তিগত পটভূমি ও জীবনধারা
আজিম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয়রা তাকে ‘অন্ধকার জগতের মানুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বৃষ্টি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা, যিনি তার প্রথম স্বামীর বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হন। দু’জনই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এলেও বর্তমানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টির ফেসবুকে প্রায় ৪৯ হাজার এবং ইনস্টাগ্রামে ১২ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, আজিমকে গত ২৫ আগস্ট মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে কয়েকদিনের মধ্যে তিনি মুক্তি পান। যদিও তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আগে আসেননি, তাদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ।
ভিডিও উৎপাদন ও অর্থ উপার্জন
CID-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশে বসেই ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও আপলোড করতেন। তাদের পরিচালিত চ্যানেলটি বিশ্বের জনপ্রিয় পর্ন সাইটগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে এবং এর মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ উপার্জন করছিলেন।
আইন অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। এই দম্পতি শুধু নিজেরাই অপরাধে জড়িত ছিলেন না, বরং অন্যদেরও এতে উৎসাহিত করতেন, যার ফলে বাংলাদেশে বসে পর্ন ভিডিও তৈরির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
সুত্রঃ দেশ টিভি

1 মন্তব্যসমূহ
এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, যেন এটা করতে কেউ সাহস না।
উত্তরমুছুন